নিজস্ব প্রতিবেদক:
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সোনাকান্দা এলাকায় জাল দলিল সৃজনের মাধ্যমে প্রতিবেশীর সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়, গত কিছুদিন আগে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এলাকায় একটি শালিশ দরবার অনুষ্ঠিত হয়। ওই শালিশে অভিযুক্ত পক্ষ বাবুল, বাছেদ, বাদল গং দাবি করেন যে, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তির মালিকানার স্বপক্ষে তাদের কাছে একটি পুরোনো দলিল রয়েছে। পরে বিজ্ঞ দরবারি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ দলিলটি উপস্থাপনের নির্দেশ দিলে তারা সেটি শালিশে প্রদর্শন করেন।
দলিলটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সেখানে উল্লেখ রয়েছে যে, পিতা আব্দুল জলিল চৌধুরী ও মাতা জোসনা খাতুন চৌধুরানী তাদের পুত্র ফজলুল হক চৌধুরী-এর নামে ২৯ শতাংশ জমি লিখে দিয়েছেন।
তবে দলিলটির বিভিন্ন তথ্য নিয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে ভুক্তভোগী মো. লিয়াকত আলীর অনুরোধে শালিশের সরদার ও মুরব্বিগণ দলিলটির সত্যতা যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। স্থানীয় ভেন্ডার মো. খোরশেদ আলম-এর সহায়তায় সংশ্লিষ্ট ভলিউম ও রেকর্ড পরীক্ষা করা হলে দলিলটি সৃজনকৃত জাল (ভুয়া) দলিল বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, জাল দলিল তৈরি করে অন্যের সম্পত্তি আত্মসাতের এমন অপচেষ্টা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং প্রকৃত মালিকদের হয়রানির মুখে ফেলছে। তারা এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. লিয়াকত আলী বলেন, “জাল দলিল তৈরি করে আমার কষ্টে অর্জিত সম্পত্তি আত্মসাতের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হবে এবং জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের প্রতারণার সাহস না পায়।